হাওজা নিউজ এজেন্সি: এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা আটলান্টিক-কে বলেন, “হামাসের হাতে এখনও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত আছে এবং পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি কল্পনার বাইরে। আমরা সৌভাগ্যবান যে সেখানে অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়নি।” তিনি স্বীকার করেন, দখলদার ইসরায়েলি সেটলারদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—২০২৫ সালের শুরুতে যেখানে মাসে ৯০টিরও কম হামলার ঘটনা ঘটত, এখন তা বেড়ে ২০০-এর বেশি হয়েছে।
সাবেক ইসরায়েলি বিমানবাহিনী জেনারেল নেমরোদ শেফার ম্যাগাজিনটিকে বলেন, “গাজায় ইসরায়েলের কৌশল হলো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া।” তার মতে, এই কৌশল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (যিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্তাধীন) ও ক্ষমতাসীন জোটের জন্য উপকারী হলেও সাধারণ মানুষের জন্য এর কোনো সুফল নেই।
তিনি অযৌক্তিকভাবে আরও দাবী করেন, “যদি ৭ অক্টোবরের হামলাটি হামাস নয়, হিজবুল্লাহ চালাত, তাহলে আজ ইসরায়েলি সেনারা বৈরুতে অবস্থান করত।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েল যেসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে “গণহত্যা” হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ, খাদ্য অবরোধ, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি—সবই সেই অপরাধের অংশ। ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৬১ হাজার ৪৯৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৭৫ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৯ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দুর্ভিক্ষে বহু মানুষের প্রাণ গেছে, যাদের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য শিশু।
একই সময়ে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি সেনা ও দখলদার সেটলারদের হাতে অন্তত ১,০১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ৭ হাজার জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ১৮ হাজার ৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আপনার কমেন্ট